আরো কয়েকটি অবশ্য জ্ঞাতব্য বিষয়

আরো কয়েকটি অবশ্য জ্ঞাতব্য বিষয়
এ.সি. পাম্পঃ
ইঞ্জিনের যে পাশে ক্যাম শ্যাফট থাকে, এ.সি. পাম্প সেই দিকে থাকে। ইঞ্জিন চালু হলে ক্যাম শ্যাফটের সাহায্যে এ.সি. পাম্পও চালু হয়। এটি চালু হয়ে পেট্রোল ট্যাঙ্ক থেকে পাইপের সাহায্যে পেট্রোল নিয়ে কারবোরেটারের ফ্লোট চেম্বারে পাঠিয়ে দেয়। এ.সি. পাম্পের ভিতরে সাতটি অংশ থাকে – যথাঃ ডায়াফার, রকার আর্ম,ইনলেট ভালব, আউটলেট ভালব, স্প্রীং, ফিল্টার নেট, এবং বাওয়েল বা ক্যাপ।
ক্যাম শ্যাফট ঘুররে রকার আর্মের সাহায্যে এর ডায়াফারম উপরে নীচে ওঠানামা করে। যখন ডায়াফারম নেমে আসে তখন ইনলেট ভালব খুব পেট্রোল টেনে আনে। ঐ পেট্রোল ফিল্টার নোটের ভিতরে গিয়ে পরিস্কার হয়ে বাওয়েল বা ক্যাপ জমা হয়। আবার যখন ডায়াফারম উপরে ওঠে তখন ইনলেট ভালব বন্ধ হয়ে আউটলেট ভালব খুলে যায় আর ঐ পথে পরিস্কার পেট্রোল কারবোরেটারের ফ্লোট চেম্বারে চলে যায়।

কয়েলঃ
কয়েলের কাজ ব্যাটারীর ‘কম ভোল্ট’ কারেন্টকে ’বেশী’ কারেন্টকে ঠিক ঠিক সময়ে প্রতিটি প্লাগে পাঠিয়ে দেয়। ডিস্ট্রিবিউটারের মধ্যে আছে ছয়টি অংশ। যথা রিটোর, কনডেন্সার, সি.বি. পয়েন্ট, সিগমেন পয়েন্ট, কার্বন ও ডিস্ট্রিবিউটার শ্যাফট।
কনডেন্সারের প্রধান কাজ হলো – কারেন্টকে ধরে সি.বি. পয়েন্টকে জ্বলে যাওয়ার হাত থেকে রাক্ষা করা, আর রোটারের কাজ – হাই ভোল্ট কারেন্টকে ঠিক ঠিক প্রতিটি সিগমেন্ট পয়েন্টে পাঠিয়ে দেয়া।

লুব্রিকেশানঃ
ইঞ্জিনের ভিতরে ঘূর্ণয়মান অংশগুলিকে যথাযথ চালু রাখতে হলে ঐ সব যন্ত্রাংশগুলিকে সদা – সর্বদা তেলে ভিজেয়ে রাখতে হয়। এই তেলে ভেজানো বা তৈলাক্ত প্রথাকে ইংরেজীতে বলা হয় লুব্রিকেটিং। লুব্রিকেটিং এর দরুণ খুব ভাল থাকে আর তার কর্যক্ষমতা ও স্থায়িত্ব ও অনেকগুণ বেড়ে যায়। ইঞ্জিনের লুব্রিকেটিং সচারাচর দুভাগে ভাগ করা হয় যথা – অয়েল পাম্প, ফ্লাস সিসটেম।

অয়েল পাম্পঃইঞ্জিনের নীচে অয়েল চেম্বারের মবিল থাকে। অয়েল পাম্পের ইঞ্জিনের ক্যাম শ্যাফট এর সাহায্যে অয়েল পাম্পও চালু হয়। তারপর মবিলকে অয়েল চেম্বারে থেকে টেনে এনে পাইপের অয়েল পাম্পও চালু হয়। তারপর মবিলকে অয়েল চেম্বার থেকে টেনে এনে পাইপের সাহায্যে ইঞ্জিনের ভালব , রকার, শ্যাফট, পুশ রড ক্যাম শ্যাফট বিয়ারিং, মেন বিয়ারিং, বিগ এন্ড বিয়ারিং ও সিলিন্ডারের গায়ে পাঠিয়ে দিয়ে ইঞ্জিনকে ঘর্ঘণজনিত উত্তাপ ও ক্ষয়ের হাত থেকে বাঁচায়।

ফ্লাস সিসটেমঃঅনেক ইঞ্জিনে আবার ফ্লাসের সাহয্যে পিস্টন এর গায়ে ঐ মবিলকে পাঠানো হয়। এই পদ্ধতি যে কেবল ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশগুলিকে লুব্রিকেটিং করে তা নয়, উপরন্ত ইঞ্জিনকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে । সর্বদা উচ্চমান এর পরিস্কার মবিল ব্যবহার করতে হবে, না হলে ইঞ্জিন এর ক্ষতি হতে পারে।

নতুন ইঞ্জিনে প্রথম এক হাজার কি.মি. গাড়ি চালাবার নিয়মঃ
নতুন ইঞ্জিনে বিভিন্ন বিয়ারিং এবং অন্যান্য যন্ত্রাংশগুলো উপরের ভিতরের বা বাহিরের বিভিন্ন অংশগুলি নতুন এবং অন্যান্য যন্ত্রাংশ গুলি নতুন অবস্থায় ঠিকমতো কর্মক্ষম থাকে না। এই অবস্থায় গাড়ি খুব জোড়ে চালালে ইঞ্জিন উত্তাপ্ত হয়ে বিয়ারিংয়ের উপরে মেটাল বা ধাতুর আবরণ গলে যেতে পারে বা সিলিন্ডারের ভিতরে পিস্টন ‘সীজ’ করে যেতে পারে। তাই যন্ত্রবিজ্ঞানীরা প্রথম এক হাজার কিলোমিটার পথ নিম্ন লিখিত গতিতে গাড়িকে চালাবার উপদেশ দিয়েছেন –
(ক) প্রথম ১৫০ কি.মি. টপ গিয়ারে ঘন্টায় ৪৯ কি.মি. হিসেবে এবং থার্ড গীয়ারে ঘন্টায় ২৫ কি.মি হিসেবে চালাতে হবে।
(খ) ১৫০ – ৭০০ কি.মি. টপ গীয়ারে ঘন্টায় ৬৫ কি.মি. হিসেবে এবং থার্ড গীয়ারে ঘন্টায় ৫০ কি.মি. হিসাবে চালাতে হবে।
(গ) ৭০০ – ১০০০ কি.মি. টপ গীয়ারে ঘন্টায় ৮০ কি.মি. হিসেবে এবং থার্ড গীয়ারে ঘন্টায় ৫৫ কি.মি. হিসেবে গাড়ি চালাতে হবে।

ট্রান্সমিসন পদ্ধতিঃ
ইঞ্জিনের শক্তি যাদের সাহায্যে চাকার পৌছায় ও চাকাকে ঘুরতে সাহায্যে করে তাকেই বলে ট্রান্সমিশন পদ্ধতি। এটি চার ভাগে বিভক্ত যথা- ক্লাচ, গীয়ার বক্স, প্রপেলার শ্যাফট এবং ডিফারেন্সিয়াল।
ক্লাচ – এর কাজ হলো ইঞ্জিনের শক্তিকে গীয়ার বক্সের সঙ্গে যুক্ত করে বা আলাদা করে। নিম্নলিখিত অংশগুলি নিয়ে ক্লাচ এ্যাসোম্বেলী গঠিত। ক্লাচ,প্লেট, প্রেসার প্লেট, স্প্রীং ফিঙ্গার , ফিঙ্গার ফর্ক, লক, কভার, এ্যাডজাস্টিং নাট, ক্লাচ হাউসিং এবং থার্স বিয়ারিং।
ক্লাচ সাধারণতঃ তিন ধরনের হয়।
(ক) অয়েল ফিল্ড – আগেকার পুরোনো ম্যান্ডেলের গাড়িতে ব্যবহৃত হতো।
(খ) ফ্রিকশান ক্লাচ – এটি ফ্লাই হুইল ও ক্লাচ প্লেটের সাহায্যে কাজ করে।
(গ) হাইড্রোলিক ক্লাচ – এটি ব্রেকের সাহায্যে কাজ করে। আজকাল ফ্রিকশান ক্লাচ বা হাইড্রোলিক ক্লাচই গাড়িতে ব্যবহৃত হয়।

(২) গীয়ার বক্স – গীয়ার বক্সের বিষয়ে ইতিপূর্বেই বলা হয়েছে
(৩) প্রপেলার শ্যাফট – এটি দুটি ইউনিভার্সাল জয়েন্ট দ্বারা গীয়ার বক্স আর ডিফারেন্সিয়ালের সঙ্গে যুক্ত থেকে ইঞ্জিনের শক্তিকে ডিফারেন্সিয়াল টেল পিনিয়ানের পাঠিয়ে দেয়।
(৪) ডিফারেন্সিয়াল – এটি গাড়ির পিছনে দিকে ডিফারেন্সিয়াল হাউসিংয়ের মধ্যে দুই দিকের এক্সিল – হাফ শ্যাফটের সঙ্গে যু্ক্ত থাকে। এর প্রধান কাজ হলো, গড়ি যখন সোজা চলে তখন পিছনের চাকা দুটিকে সমান শক্তিতে সমান গতিতে ঘোরাতে থাকে। গাড়ি যখন কোনো দিকে মোড় নেয় তখন এক চাকার শক্তি অন্য চাকায় পাঠিয়ে গাড়িকে ভাল ভাবে মোড় নিতে সাহায্য করে।
এর মধ্যে থাকে টেল পিনিয়ান, ক্রাউন পিনিয়ন, স্পাইডার পিনিয়ান ও ব্যাভেল পিনিয়ান। গাড়ি যখন সোজা চলে তখন স্পাইডার পিনিয়ন থাকে নিষ্ক্রিয় আর যখন কোনো মোড় নেয় তখন পিছনের চাকা দুটির ভারসাম্য বজায় রাখে।

ব্রেক পরীক্ষাঃ
গাড়ি নিশ্চল অবস্থায় ব্রেক পরীক্ষা করতে হলে করতে হলে – ব্রেক প্যাডেল চাপলে যদি ব্রেক প্যাডেল এক থেকে দেড় ইঞ্চি বসে যাবার জোরের সঙ্গে চাপতে হয় তাহলে ব্রেক ঠিক আছে। আর যদি সবটা বসে যায় সঙ্গে সঙ্গে, তাহলে ব্রেক খারাপ আছে বুঝতে হবে। গালু গাড়ির ব্রেক পরীক্ষা করতে গেলে গাড়িকে ঘন্টায় পঁচিশ কি.মি. হিসেবে চালিয়ে ব্রেক করলে গাড়ি যদি পাঁচ – ছয় মিটারের মধ্যে থেমে যায় তাহলে ব্রেক কোনও দোষ ত্রু টি নেই বুঝবেন।

ব্লিডিং পদ্ধতিঃ
যদি ব্রেক লাইনের ভিতরে বাতাস চুকে যায় তবে স্লিডিং করে বাতাস বের করে দিতে হবে। না হলে ব্রেক কাজ করবে না। স্লিডিং কারা জন্য দুজন লোকের দরকার। একজনকে গাড়িতে বসে ব্রেক প্যাডেলকে বার কয়েক চাপতে আর ছাড়তে হবে, অন্য জনকে হুইল সিলিন্ডারের স্লিডিং নাটকে খুলতে হবে। খোলার সঙ্গে সঙ্গে সেখান দিয়ে ব্রেক অয়েলের সঙ্গে বাতাসও ফেনাযুক্ত ভাবে বের হবে। আবার স্লিডিং নাটকে শক্ত করে আটকে দিতে হবে। আর ব্রেক প্যাডেলকে বার কতক চাপতে ও ছাড়তে হবে পুনরায় স্লিডিং নাট খুলতে হবে। এইভাবে কয়েক বার করার পর যখন কেবল ব্রেক অয়েলই বের হবে তখন বুঝতে হবে ব্রেক লাইনে আর বাতাস নেই।
যদি ব্রেক প্যাডেল চেপে ছেড়ে দিলে আর তা উঠে না আসে তবে বুঝবেন যে মাস্টার সিলিন্ডারে তেল কম আছে কিংবা ব্রেক প্যাডেল এর রিটাণিং স্প্রীং অকেজো হয় গেছে। তখন নতুন করে মাস্টার সিলিন্ডারে ব্রেক অয়েল দিতে হবে বা নতুন একটা রিটার্ণিং স্প্রীং লাগাতে হবে।

টায়ার ব্যবহার করার নিয়মঃ
(ক) টায়ারের বেশী কিংবা কম হাওয়া ভরলে টায়ার ক্ষতি গ্রস্থ হয়। তাই সব সময় ঠিকমতো হাওয়া ভারা উচিত।
(খ) গাড়িতে মাল বোঝাই করার সময়ে একদিকে বেশী, আর একদিকে কম মাল তুললে গাড়ি একদিকে ঝুকে থাকে, তাতে চাপ বেশী পড়ার দুরুণ ঐ দিকের টায়ার ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তাই সমান ভাবে সব দিকে মাল বোঝাই করা উচিত।
(গ) বেশী স্পীডে গাড়ি চালালে, ঘন ঘন ব্রেক চাপলে কিংবা হঠাৎ ব্রেক চাপলে কিংবা খারাপ ভাবে মোড় নিলে টায়ারের যে শব্দ হয়ে তাতে টায়ারের টেকসইতা কমে যায়।
(ঘ) গাড়ির চাকার টায়ার মাঝে আগে – পিছু করে পাল্টে দিলে সমান ঘর্ষণ ও চাপের জন্য অনেক দিন চলতে পারে।
(ঙ) বেশি ঘষা অর্থাৎ প্লেন টায়ার কখনো ব্যবহার করবেন না। টায়ারকে রোদ , পেট্রোল ও অন্যান্য তেল লাগার হাত থেকে রক্ষা করার সাধ্যমত চেষ্টা করা দরকার।

চালকের বসার নিয়মঃ
গাড়ির চালককে এমন ভাবে তাঁর সীটে বসতে হবে, তিনি যেন বসলে তাঁর সামনের দৃশ্য সোজাভাবে ও ভালভাবে দেখতে পান। যদি তিনি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করার যন্ত্রাংশগুলিতে হাত ও পা সহজে নাড়াচাড়া করতে পারেন তবেই তিনি বেশী পরিশ্রম না করে বহু সময় ধরে, বহু দূর পর্যন্ত সুচারু ভাবে গাড়ি চালাতে পারবেন। ঠিক ভাবে হাটু মুড়ে না বসলে বা ঠিক ভাবে স্টীয়ারিং ধরতে না পারলে হাঁটুতে ও বাহুতে ব্যাথা হবে। প্যাডেল চাপবার সময় গোড়ালি যাতে সব সময় গাড়ির ফুটবোর্ডে লেগে থাকে সে ভাবে বসার চেষ্টা করবেন। স্টিয়ারিংয়ের সঙ্গে খুব কাছাকাছি হয়ে বসবেন না, অন্তত কাঁট দুটো যেন কম করেও পঁচিশ – থেকে ত্রিশ সে.মি.দূরে থাকে।
সব সময় নিজের সুবিধা অনুযায়ী ও দরকার মত ড্রাইভিং সীটকে এদিক ওদিক সরিয়ে, পিঠে বা কোমরে অথবা পাছার তলায় কিছু রেখে বসতে পারেন। বসবার পর সীটে বসে রিয়ার ভিউ আয়নাটাকে ঠিক মত জায়গায় স্থাপন করবেন – যাতে আপনি বসে বসেই আয়ানা দিয়ে পিছনের দিক অনায়াসে লক্ষ্য করতে পারেন।

সাধারণ জ্ঞানঃ
প্রশ্নঃ ব্লু বুক কি ? তাতে কি লেখা থাকে ?
উত্তরঃ ব্লু বুক থেকে গাড়ির সম্পূর্ণ পরিচয় পাওয়া যায়। এতে গাড়ির ওনার এর নাম ও ঠিকানা, রেজিস্ট্রাশন নম্বর, চেসিস ও ইঞ্জিনের নম্বর, কত হর্স পাওয়ার ও কত সিলিন্ডারের ইঞ্জিন, কোন মডেলের কোন সালের ও কোন কোম্পানির গাড়ি, খালি গাড়র ওজন, কত ওজনের মাল বইতে পারে, কত লোক বসতে পারে ইত্যাদি। মোটর ভিলকস অথরিটি এই ব্লু বুক ইসু করে থাকেন। যদি কখনো গাড়ির কোন কিছু পরিবর্তন হয় তার মোটর ভিকস ডিপার্টমেন্ট তা সঙ্গে সঙ্গে জানিয়ে ব্লু বুক রেকটিফাই করে নিতে হয়।
প্রশ্নঃ ট্যাক্স টোকেন কি ? এতে কী লেখা থাকে ?
উত্তরঃ পথে গাড়ি চালাবার জন্যে গভর্ণমেন্ট কে যে ট্যাক্স দিতে হয়, এটা তারই রসিদ। ড্রাইভারের সামনের কাচে বাঁ দিকে লাগানো থাক। এতে গাড়ির নম্বর, কতদিনের ট্যাক্স জমা দেওয়া হয়েছে – তার তারিখ ইত্যাদি লেখা থাকে।
প্রশ্নঃ গাড়ি চালাতে চালাতে চালককে জমা কি কি জিনিসের দিকে লক্ষ্য দিতে হবে ?
উত্তরঃ এম.মিটার, অয়েল মিটার, হীট মিটার, স্পীডো মিটার লক্ষ্য করতে হবে, রিয়ার ভিউ দিয়ে পিছন দিক লক্ষ্য করতে হবে, রাত্রিকালে গাড়ির হেডলাইট, সাইড লাইট বা ব্যাক লাইট জ্বলছে কি না।
প্রশ্নঃ গাড়িতে সাধারণতঃ কি কি তেল দিতে হয় ?
উত্তরঃ গাড়িতে সাধারণত: পাঁচ ধরনের তেল দিতে হ – পেট্রোল, মবিল, গীয়ার অয়েল, ক্রুড অয়েল আর ব্রেক অয়েল।

প্রশ্নঃ কত কি.মি. অন্তুর মবিল পাল্টাতে হয় ?
উত্তরঃ নতুন ইঞ্জিন হলে আটশত কি.মি. পুরানো ইঞ্জিন হলে তিন হাজার থেকে পাঁচ হাজার কি.মি. চলার পর মবিল পাল্টানো দরকার।
প্রশ্নঃ মবিল বেশী হলে কী ক্ষতি হবে ?
উত্তরঃ মবিল বেশী হলে প্লাগে মবিল উঠে যায়। ফলে ফায়ারিং চেম্বারে ঠিকমতো ফায়ারিং হয় না। তখন মবিল চেম্বারের তলায় যে ড্রেন প্লাগ থাকে তা খুলে বাড়তি মবিলটুকু বার করে দিতে হয়।
প্রশ্নঃ গীয়ার অয়েল কত কি.মি. অন্তর পাল্টাতে হয় ?
উত্তরঃ গাড়ি পনেরো কি.মি. পথ চলার পর পাল্টানো দরকার।
প্রশ্নঃ ক্রুড অয়েল কোথায় দিতে হয় ? কত কি.মি. অন্তর পাল্টাতে হয় ?
উত্তরঃ ক্রুড অয়েল ডিফারেন্সিয়াল হাউসিং এর স্টিয়ারিং বক্সে দিতে হয়। এই তেল প্রতি পনেরো হাজার কি.মি. পথ চলার পর পাল্টে পাল্টে দিতে হয়। ডিফারেন্সিয়াল হাউসিং এর মাঝখানে একটি লেভেল প্লাগ থাকে, তাকে খুলে ঐ তেল দিতে হয়।
প্রশ্নঃ গাড়িতে পেট্রোল কিংবা মবিল বেশী খরচ হচ্ছে কিনা কি করে বোঝা য়ায় ?
উত্তরঃ একজস্ট পাইপ দিয়ে প্রচুর পরিমাণে কালো ধোয়া বার হলে পেট্রোল আর নীল ধোয়া বার হলে মবিল বেশী খরচ হচ্ছে বুঝতে হবে।
প্রশ্নঃ এয়ার ক্লীনার কোথায় থাকে ? কাজ কী ? কার ভিতরে থাকে ?
উত্তরঃ এটি থাকে কারবোরেটারের উপরে লাগানো। বাইরে থেকে যে বাতাস কারবোরেটারে ঢোকে, তাকে ছে’কে পরিস্কার করে দেয়। এর ভেতর পাতলা তারের জাল ও মবিল থাকে।
প্রশ্নঃ ইঞ্জিনে কয়টি পুলি থাকে ? কি কি তাদের কাজ কি ?
উত্তরঃ ইঞ্জিনে তিনটি পুলি থাকে – স্টার্টিং পুলি, ডায়নামো পুলি, ওয়াটার পাম্প পুলি। ইঞ্জিনের ক্রাঙ্ক শ্যাফট ঘুরলে স্টার্টিং পুলি ঘুরবে। এবং ওটি ঘুরে ক্যান বেল্টের সাহায্যে দুটি পুলিকে ঘোরায়। ডায়নামো পুলি ঘুরে ডায়নামো চালু করে এবং ওয়াটার পাম্প পুলি ঘুরলে ওয়াটার পাম্প চালু হয় এবং পাখা ঘুরতে শুরু হয়।
প্রশ্নঃ ঢালু পথে হঠাৎ ব্রেক ফেল করলে কি করতে হবে ?
উত্তরঃ ইগ্নিশান সুইচকে বন্ধ করে গাড়িকে নীচু গীয়ারে আনতে হবে।
প্রশ্নঃ একবার ইলেকট্রিক হর্ণ বাজাবার পর তা একটানা বেজে গেলে কি করতে হবে ?
উত্তরঃ কাট আউটের তার খুলে দিলেই থেমে যাবে।
প্রশ্নঃ ইগ্নিশান চালু করার পর এম – মিটার চার্জে দেখাবের কারণ কি ?
উত্তরঃ ব্যাটারীর তার উল্টো পাল্টা লাগালে এমন দেখায়। ইঞ্জিন চালু করলে ডিসচার্জ দেখাবে।
প্রশ্নঃ গাড়ি চলবার সময় ধাক্কা দিতে দিতে বন্ধ, আবার কখনো কোনো শব্দ না করে বা ধাক্কা না দিয়েই বন্ধ হয়ে যাবার কারণ কী ?
উত্তরঃ ধাক্কা দিতে দিতে গাড়ি বন্ধ হয়ে গেলে বুঝতে হবে পেট্রোল লাইনে কোন গোলমাল ঘটেছে; আর নি:শব্দে কিংবা ধাক্কা না দিয়ে বন্ধ হয়ে গেলে ইলেকট্রিক লাইনের কোন গোলমাল ঘটেছে বুঝতে হবে।
প্রশ্নঃ গাড়িতে ব্রেক প্যাডেল চাপলে গাড়ি কখনো কখনো একধিকে সরে যায় কেন ?
উত্তরঃ (ক) যদি ব্রেক লাইন ঠিক মতো অ্যাডজাস্ট না করা থাকে,
(খ) যদি চার চাকার ঠিকমতো হাওয়া না ভরা থাকে,
(গ) যদি পথ পিছলে থাকে।
(ঘ) স্পীডে চালাতে চালাতে হঠাৎ যদি ব্রেক কষা হয়।
প্রশ্নঃ গীয়ার বক্স থাকার উদ্দেশ্য কী ?
উত্তরঃ গীয়র বক্স থাকার উদ্দেশ্যে দুটিঃ
(ক) গাড়ির গতিশক্তির পরিবর্তন করা
(খ) গাড়িকে পিছুদিকে চালান। গীয়ার অবস্থান পাল্টে এই দুটি উদ্দের্শ সাধিত হয়।
প্রশ্নঃ এ্যক্সিল কত টাইপের হয় ?
উত্তরঃ এ্যাক্সিল প্রধানত: দু’টাইপের হয়। ডেড এবং লাইভ।
ডেড এ্যাকসিল থাকে গরুর গাড়িতে। এটি দৃঢ়ভাবে থাকে, চাকার সঙ্গে সঙ্গে ঘোরে না শুধু চাকাই ঘোরে। আর লাইভে এ্যাক্সিল চাকার ঘূর্ণনের সঙ্গে নিজেও ঘুরপাক খেতে থাকে।
প্রশ্নঃ লাইভ ( বা রিয়ার) এ্যাকসিল কত টাইপের হয় ?
উত্তরঃ লাইভ ( বা রিয়ার) এ্যাকসিল প্রধানত: তিন টাইপের হয়। (ক) হাফ ফ্লেটিং (খ) থ্রী – কোয়াটার ফ্লেটিং আর (গ) ফুল ফ্লেটিং ।
প্রশ্নঃ টায়ার কত রকমের হয় ?
উত্তরঃ টায়ার দুরকমের হয়। (ক) টিউব সমেত আর (খ) টিউব ছাড়া।
প্রশ্নঃ টায়ার সচরাচর কীভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয় ?
উত্তরঃ অত্যাধিক ভ্রমণ ছাড়াও নানাবিধ তেল, গ্রীজ আর ডিজেল ফুয়েল টায়ারের ক্ষতি করে। ইলেকট্রিক মোটর, গ্যাস হীটার এবং প্রখর সূর্যের আলো ও টায়ারের ক্ষতির অন্যতম কারণ। সূর্যের আলোর যে আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মি থাকে তা লেগে টায়ার ক্ষয়গ্রস্থ হতে শুরু করে।
প্রশ্নঃ কোন টায়ারের সাইজ যদি ৮০০ × ১৪ হয় তবে তার ব্যাস কত হবে ? ১৬”, ২৮”না ৩০” ?
উত্তরঃ ৩০”
প্রশ্নঃ ব্রেক মাঝে মাঝে আকর্যকর হয় কেন ?
উত্তরঃ অতিরিক্ত তৈলাক্ত, খারাপ অথবা ভুল টাইপের ব্রেক লাইনিং ব্যবহার করার জন্য।
প্রশ্নঃ ব্রেকের কার্যকারিতা যদি শতকরা ৩০.৫০.৭০ ভাগ হয় তবে ঐ কার্যকারিতাকে কীভাবে বর্ণনা করবেন ?
উত্তরঃ শতকরা ত্রিশ ভাগ হলো বিপজ্জনক; পঞ্চাশ ভাগ মাঝারি; আর সত্তুর ভাগ হলো খুব ভাল।

প্রশ্নঃ সাসপেনসন কাকে বলে আর তার কাজ কী ?
উত্তরঃ বিভিন্ন আকৃতির স্প্রীং গাড়ির সামনে ও পিছনের এ্যাকসিল ফিট করা থাকে। রাস্তার ঝাঁকুনি বা উচুনিচু পথের ধাক্কা এই স্প্রীংগুলি সহ্য করে গাড়িকে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে। ধকল সহ্য করার এই প্রণালকেই সাসপেনসন বলে। তাই সাসপেনসনের কাজ হলো যে কোন ধরনের পথে গাড়িকে মসৃণভাবে চালানো।
প্রশ্নঃ ইন্টারন্যাল কম্বাসশান ইঞ্জিন বলতে কী বোঝায় ?
উত্তরঃ যে ইঞ্জিন তার নিজের অভ্যন্তর আগেই জ্বালানিকে দাহ করে, তাকেই ইন্টানাল কম্বাসশন ইঞ্জিন বলে যেমন – পেট্রোল আর ডিজেল চালিত মোটর গাড়ির ইঞ্জিন।
প্রশ্নঃ এক্সটারনাল কম্বাসশন ইঞ্জিন বলতে কী বোঝায় ?
উত্তরঃ যে ইঞ্জিন তার নিজের তার বাইরে অন্যত্র তার জ্বালানীকে দাহ করে তাকেই বলে এক্সটারনাল কম্বাসশন ইঞ্জিন বলে – যেমন – লোকেমোটিভ ইঞ্জিন এবং শিল্পাদিতে ব্যবহৃত কল – কারখানার ইঞ্জিন।
প্রশ্নঃ কার্বোরেটার থেকে ইঞ্জিন সিলিন্ডারের পেট্রোল প্রবাহিত হবার পেট্রোল পাম্প কত রকমের হয় ?
উত্তরঃ দু রকমের (ক) যান্ত্রিক আর (খ) বৈদ্যুতিক
প্রশ্নঃ কার্বোরেটারেরা কাজ কী ?
উত্তরঃ পেট্রোল আর বাতাসের অক্সিজেনের মিশ্রণ ইঞ্জিনের কম্বাসশান চেম্বারে গিয়ে পড়তে থাকে। কার্বোরেটারের কাজ হলো ঐ পেট্রোল ও বাতাসের অক্সিজেনের সঠিক পরিমাণে মিশ্রিত করার একটা কল।
প্রশ্নঃ এয়ার ফুয়েল রেশিও ১৫ : ১ বলতে কি বোঝায় ?
উত্তরঃ অর্থাৎ পনেরো কেজি বাতাসে যে পরিমাণ অক্সিজেন আছে তা এক কেজি পেট্রোলকে পোড়াতে পারে।
প্রশ্নঃ গাড়ির কোন কোন অংশে প্রধানত: লুব্রিকেশান বা তৈলাক্ত করার দরকার ?
উত্তরঃ ক্রাঙ্ক শ্যাফট বিয়ারিং , ক্র্যাঙ্কপিনস , বিগ এন্ড কানেটিং রড, স্মল এন্ড কানেক্টিং রড, গাজন পিয়নের বুশ সিলিন্ডারের ভিতরের অংশ, পিস্টন রিং, গীয়ার, ক্যামশ্যফট, ভালব অপারেটিং মেকানিজম রিয়ারিং ইত্যাদি
প্রশ্নঃ রিডিয়েটারের কটি অংশ ?
উত্তরঃ পাঁচটি। যথাক্রমে রেডিয়েটার সটল, ওভার ফ্লো পাইপ, ক্যাম এবং টপ।
প্রশ্নঃ রিডেয়েটার কীভাবে কার্যকরী রাখা যায় ?
উত্তরঃ প্রধানতঃ তিনটি উপায়ে রিডিয়েটার বহুদিনের জন্য কার্যকারী রাখা যায়। প্রথমতঃ ওয়াটার পাইপের ক্লিক একটি স্ক্রু – ডাইভারের সাহায্যে যথেষ্ট ভাবে আঁটি করে রাখতে হবে; দ্বিতীয়তঃ রেডিয়েটারের জাল আর বাতাস চলাচলকারী ছিদ্রগুলিকে সব সময় পরিস্কার ও উম্মুক্ত রাখতে হবে। তৃতীয়তঃ নিয়ম করে বছরে তিন চার বার রেডিয়েটারকে জল আর বাতাসের সাহায্যে ফ্লাশ করে নিতে হয়।
প্রশ্নঃ গাড়িতে ব্যাটারী রাখা হয় কেন ?
উত্তরঃ গাড়িতে ব্যাটারী রাখা হয় উদ্দেশ্য যে, ব্যাটারী হলে শক্তির ভান্ডার। ডায়নামো থেকে উৎপন্ন বৈদ্যুৎতিক শক্তি এতে রাসায়নিক শক্তিতে রুপান্তরিত হয়ে জমা হয়। প্রয়োজন মত এই শক্তিকে ইঞ্জিন পুনরায় বৈদ্যুৎতিক শক্তি রুপে স্টার্টার ইগ্নিসান সিসটেম এবং লাইটিং সিসটেম সঞ্চারিত করা যায়।
প্রশ্ন গাড়িতে ডায়নামো থাকে কেন ?
উত্তরঃ ব্যাটারী হলো ডাইরেক্ট কারেন্টের ভান্ডার। ব্যাটারীকে সব সময় চার্জড কিন্ডিশনে রাখার জন্যই গাড়িতে ডায়নামো রাখতে হয় আর এই ডায়নামো রাণ করে ইঞ্জিনের ক্র্যাঙ্ক শ্যাফটের সাহায্যে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *